রাইজেন ৭ ৫৭০০ এবং বি৪৫০এম-এ প্রো ম্যাক্স দিয়ে তৈরি পিসির জন্য কত ভিএ ইউপিএস লাগবে, সেটি শুধু প্রসেসর ও মাদারবোর্ডের নাম দেখে ঠিক করা যায় না। এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো গ্রাফিক্স কার্ড, পাওয়ার সাপ্লাই এবং পুরো পিসি বাস্তবে কত ওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবহার করছে।
রাইজেন ৭ ৫৭০০ প্রসেসরের নির্ধারিত তাপ নকশা ক্ষমতা ৬৫ ওয়াট এবং এতে বিল্ট-ইন গ্রাফিক্স নেই। তাই এই প্রসেসর দিয়ে ডিসপ্লে চালাতে আলাদা গ্রাফিক্স কার্ড প্রয়োজন। ফলে কোন গ্রাফিক্স কার্ড ব্যবহার করা হচ্ছে, তার ওপর পুরো পিসির বিদ্যুৎ ব্যবহার অনেকটাই নির্ভর করবে।
তাই গ্রাফিক্স কার্ড না জেনে সরাসরি “১০০০ ভিএ নিন” বা “১২০০ ভিএ হলেই যথেষ্ট” বলা ঠিক নয়।
সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি হলো পিসি ও মনিটর বাস্তবে সর্বোচ্চ কত ওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবহার করছে, সেটি মাপা।
গেম খেলা, ভিডিও সম্পাদনা বা অন্য ভারী কাজের সময় একটি বিদ্যুৎ মাপার যন্ত্র দিয়ে পিসি ও মনিটরের মোট বিদ্যুৎ ব্যবহার মাপুন।
তারপর সেই লোডের ওপর কিছু অতিরিক্ত জায়গা রাখুন।
এপিসির নির্দেশনা অনুযায়ী ইউপিএসের আউটপুট ওয়াট ধারণক্ষমতা সংযুক্ত যন্ত্রের মোট বিদ্যুৎ ব্যবহারের তুলনায় সাধারণত ২০ থেকে ২৫ শতাংশ বেশি রাখা ভালো। একই সঙ্গে ইউপিএসের ভিএ ও ওয়াট, কোনোটির সীমাই অতিক্রম করা উচিত নয়।
সহজভাবে:
মাপা সর্বোচ্চ লোড + ২০ থেকে ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত ধারণক্ষমতা = প্রয়োজনীয় ইউপিএস আউটপুট
ধরুন গেম খেলার সময় পিসি ও গেমিং মনিটর মিলিয়ে সর্বোচ্চ ৪০০ ওয়াট ব্যবহার করছে।
এর সঙ্গে ২৫ শতাংশ যোগ করলে প্রয়োজন দাঁড়ায় প্রায় ৫০০ ওয়াট।
তাহলে ৬০০ ওয়াট আউটপুট দিতে পারে এমন একটি ইউপিএস ধারণক্ষমতার দিক থেকে যথেষ্ট জায়গা রাখবে।
আবার মোট লোড যদি ৫০০ ওয়াট হয়, ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত ধরলে প্রয়োজন প্রায় ৬২৫ ওয়াট।
সে ক্ষেত্রে ৬০০ ওয়াট আউটপুটের ইউপিএস আর যথেষ্ট অতিরিক্ত জায়গা রাখছে না। ৭২০ ওয়াট বা তার বেশি আউটপুটের ইউপিএস বেশি যুক্তিযুক্ত হবে।
ইউপিএস কেনার সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো ভিএ এবং ওয়াট এক জিনিস নয়।
একই ১২০০ ভিএ লেখা দুইটি ইউপিএসের প্রকৃত লোড নেওয়ার ধারণক্ষমতা আলাদা হতে পারে।
বর্তমানে রায়ান্সে তালিকাভুক্ত উদাহরণেই দেখা যায়:
| ইউপিএস | ভিএ | সর্বোচ্চ লোড |
| ডিজিটাল এক্স | ১২০০ ভিএ | ৬০০ ওয়াট |
| পাওয়ার গার্ড | ১২০০ ভিএ | ৭২০ ওয়াট |
| পাওয়ারপ্যাক | ১২০০ ভিএ | ৭৫০ ওয়াট |
অর্থাৎ তিনটিই ১২০০ ভিএ হলেও লোড নেওয়ার ধারণক্ষমতা এক নয়।
তাই দোকানে শুধু “১২০০ ভিএ ইউপিএস দিন” বললে হবে না।
অবশ্যই জিজ্ঞেস করুন:
ইউপিএসটি সর্বোচ্চ কত ওয়াট লোড নিতে পারে?
না।
পাওয়ার সাপ্লাইয়ে ৬৫০ ওয়াট লেখা থাকার অর্থ পিসি সব সময় ৬৫০ ওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবহার করছে না। এটি পাওয়ার সাপ্লাইটি সর্বোচ্চ কত বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য তৈরি, সেটির একটি সীমা।
বাস্তবে পিসির বিদ্যুৎ ব্যবহার নির্ভর করে:
ইত্যাদির ওপর।
একই কারণে রাইজেন ৭ ৫৭০০-এর ৬৫ ওয়াটের তথ্য দেখেও পুরো পিসির বিদ্যুৎ ব্যবহার নির্ধারণ করা যাবে না।
ইউপিএস শুধু মাদারবোর্ড চালায় না।
বিদ্যুৎ চলে গেলে ইউপিএসকে একসঙ্গে প্রসেসর, গ্রাফিক্স কার্ড, র্যাম, এসএসডি, ফ্যানসহ পুরো পিসি এবং ইউপিএসে যুক্ত থাকলে মনিটরও চালাতে হয়।
তাই:
রাইজেন ৭ ৫৭০০ + বি৪৫০এম-এ প্রো ম্যাক্স = নির্দিষ্ট ভিএ
এভাবে হিসাব করা ঠিক নয়।
বরং হিসাবটি হওয়া উচিত:
পিসি + মনিটরের বাস্তব সর্বোচ্চ লোড + ২০ থেকে ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত ধারণক্ষমতা।
সাধারণ ডেস্কটপ পিসিতে অফলাইন ইউপিএসের মূল কাজ হলো বিদ্যুৎ চলে গেলে কিছু সময় ব্যাটারি থেকে বিদ্যুৎ দেওয়া।
যদি আপনার উদ্দেশ্য হয় কাজ সংরক্ষণ করে পিসি নিরাপদে বন্ধ করা, তাহলে সঠিক ধারণক্ষমতার একটি উপযুক্ত অফলাইন ইউপিএস কাজে আসতে পারে।
অন্যদিকে এলাকায় ভোল্টেজ ওঠানামা বেশি হলে এভিআর-যুক্ত লাইন-ইন্টারঅ্যাক্টিভ ইউপিএস বিবেচনা করা যায়।
এভিআর ছোটখাটো ভোল্টেজ ওঠানামা ব্যাটারি ব্যবহার না করেই সামলাতে পারে। ফলে অপ্রয়োজনে ব্যাটারিতে যাওয়ার প্রয়োজন কমে এবং ব্যাটারির আয়ু রক্ষায় সাহায্য করতে পারে।
এটি শুধু পিসিতে শক্তিশালী গ্রাফিক্স কার্ড আছে কি না, তার ওপর নির্ভর করে না। পাওয়ার সাপ্লাইয়ের ধরনও গুরুত্বপূর্ণ।
অনেক আধুনিক পাওয়ার সাপ্লাইয়ে অ্যাকটিভ পিএফসি ব্যবহৃত হয়। সাইবারপাওয়ারের তথ্য অনুযায়ী অ্যাকটিভ পিএফসি পাওয়ার সাপ্লাইয়ের সঙ্গে সাইন ওয়েভ আউটপুটের ইউপিএস ভালো সামঞ্জস্য দিতে পারে। সিমুলেটেড সাইন ওয়েভ কিছু অ্যাকটিভ পিএফসি পাওয়ার সাপ্লাইয়ের ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি করতে পারে।
তাই ইউপিএস কেনার আগে নিজের পাওয়ার সাপ্লাইয়ের সঠিক মডেল দেখে নিন এবং সেটি কোন ধরনের ইউপিএস আউটপুটের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা যাচাই করুন।
শুধু “গেমিং পিসি, তাই বিশুদ্ধ সাইন ওয়েভ অবশ্যই লাগবে” এমন সাধারণ সিদ্ধান্তও ঠিক নয়।
শুধু ভিএ দেখে ব্যাকআপ সময় বলা যায় না।
ব্যাকআপ সময় নির্ভর করে:
ইত্যাদির ওপর।
একই ইউপিএস কম লোডে বেশি সময় এবং বেশি লোডে কম সময় ব্যাকআপ দেবে।
তাই গেমিং পিসির ইউপিএস কেনার সময় দীর্ঘ সময় গেম চালিয়ে যাওয়ার চেয়ে বিদ্যুৎ চলে গেলে কাজ বা গেম সংরক্ষণ করে পিসি নিরাপদে বন্ধ করার মতো সময় পাওয়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
গ্রাফিক্স কার্ড এবং বাস্তব বিদ্যুৎ ব্যবহার না জেনে নিশ্চিতভাবে বলা যাবে না।
কারণ একই ১২০০ ভিএ ইউপিএসের আউটপুট ৬০০, ৭২০ বা ৭৫০ ওয়াটও হতে পারে।
ধারণাটি সহজ করতে এই হিসাবটি দেখুন:
| পিসি + মনিটরের মাপা লোড | ২৫% অতিরিক্ত ধরলে প্রয়োজন |
| ৩০০ ওয়াট | প্রায় ৩৭৫ ওয়াট |
| ৪০০ ওয়াট | প্রায় ৫০০ ওয়াট |
| ৫০০ ওয়াট | প্রায় ৬২৫ ওয়াট |
| ৬০০ ওয়াট | প্রায় ৭৫০ ওয়াট |
অর্থাৎ আপনার পিসি ও মনিটর যদি সর্বোচ্চ ৪০০ ওয়াট ব্যবহার করে, তাহলে ৬০০ ওয়াট আউটপুটের ইউপিএস ধারণক্ষমতার দিক থেকে যথেষ্ট জায়গা রাখে।
কিন্তু লোড যদি ৬০০ ওয়াট হয়, তাহলে একই ৬০০ ওয়াট ইউপিএস নেওয়া ঠিক হবে না। ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত ধরলে প্রায় ৭৫০ ওয়াট আউটপুট প্রয়োজন হবে।
কেনার আগে এই তথ্যগুলো নিশ্চিত করুন:
বিদ্যুৎ ব্যবহার মাপার যন্ত্র না থাকলে শুধু প্রসেসরের নাম দেখে ইউপিএস কিনবেন না।
অন্তত গ্রাফিক্স কার্ড ও পাওয়ার সাপ্লাইয়ের সঠিক মডেল জানা প্রয়োজন। তারপর নির্মাতার তথ্য দেখে একটি সম্ভাব্য হিসাব করা যায়।
তবে সেই হিসাব বাস্তব মাপের বিকল্প নয়।
কারণ একই পিসির বিদ্যুৎ ব্যবহার গেম, গ্রাফিক্স সেটিংস এবং কাজের চাপ অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে।
রাইজেন ৭ ৫৭০০ + বি৪৫০এম-এ প্রো ম্যাক্সের জন্য শুধু এই দুইটি যন্ত্রাংশের নাম দেখে নির্দিষ্ট কত ভিএ ইউপিএস লাগবে, তা বলা ঠিক নয়।
কারণ রাইজেন ৭ ৫৭০০-এ বিল্ট-ইন গ্রাফিক্স নেই। তাই কোন গ্রাফিক্স কার্ড ব্যবহার করা হচ্ছে, সেটি জানা জরুরি।
No Comments
Leave a comment