পুরোনো কম্পিউটার বা ল্যাপটপে এসএসডি লাগানোর পর আগের এইচডিডিটা অনেক সময় আলাদা করে রেখে দেওয়া হয়। কয়েক বছর পর সেটি আবার কম্পিউটারে লাগিয়ে দেখা গেল, ঠিকই চলছে। ফাইল খোলা যাচ্ছে, কপি হচ্ছে, কোনো অদ্ভুত শব্দও নেই। তখন প্রশ্ন আসে, গুরুত্বপূর্ণ ছবি, অফিসের নথি বা বহু বছরের পুরোনো ফাইলগুলো কি এই ড্রাইভে রেখে দেওয়া নিরাপদ? সংক্ষিপ্ত উত্তর হলো, পুরোনো এইচডিডি ব্যবহার করা যেতে পারে, কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ফাইলের একমাত্র কপি সেখানে রাখা ঠিক নয়। কারণ একটি ড্রাইভ আজ ঠিকভাবে চলছে মানেই আগামীকালও ঠিক থাকবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।
যদি গুরুত্বপূর্ণ ফাইল ইতিমধ্যেই পুরোনো এইচডিডিতে থাকে, প্রথম কাজ হওয়া উচিত সেগুলোর আরেকটি কপি তৈরি করা।
ড্রাইভটি খুব পুরোনো হলে বা আগে থেকেই সমস্যা দেখালে সঙ্গে সঙ্গে দীর্ঘ পরীক্ষা চালানো ঠিক নয়। কারণ দীর্ঘ সময় ধরে ড্রাইভ পড়া ও লেখার কাজ করলে দুর্বল ড্রাইভে সমস্যা আরও বাড়তে পারে।
তাই আগে যেসব ফাইল হারালে সমস্যা হবে সেগুলো অন্য একটি ভালো ড্রাইভ, এসএসডি বা ক্লাউডে কপি করুন।
এরপর ড্রাইভের অবস্থা পরীক্ষা করুন।
পুরোনো এইচডিডি ব্যবহার করার সময় কয়েকটি লক্ষণকে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়।
এগুলোর যেকোনো একটি থাকলে গুরুত্বপূর্ণ নতুন ফাইল সেখানে রাখা বন্ধ করা ভালো।
বিশেষ করে অস্বাভাবিক শব্দ, বারবার সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া বা ফাইল পড়তে না পারার মতো সমস্যা থাকলে আগে তথ্য অন্য জায়গায় সরিয়ে নিন।
পুরোনো এইচডিডি ঠিক আছে কি না বোঝার জন্য শুধু “চলছে কি না” দেখা যথেষ্ট নয়।
এইচডিডিতে থাকা স্মার্ট তথ্য দেখে প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যায়। এতে সাধারণত খারাপ সেক্টর, পুনরায় বরাদ্দ করা সেক্টর, পেন্ডিং সেক্টর, তাপমাত্রা এবং অন্য কিছু ত্রুটির তথ্য থাকে।
তবে এখানে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি।
স্মার্টে সবকিছু ভালো দেখালেই ড্রাইভ শতভাগ নিরাপদ হয়ে যায় না।
কিছু ড্রাইভ কোনো আগাম সতর্কতা ছাড়াই নষ্ট হতে পারে। তাই স্বাস্থ্য পরীক্ষায় ভালো ফল পেলেও গুরুত্বপূর্ণ ফাইলের একমাত্র কপি পুরোনো ড্রাইভে রাখা উচিত নয়।
যদি সম্ভব হয়, ড্রাইভ নির্মাতার নিজস্ব পরীক্ষার সফটওয়্যার ব্যবহার করেও পরীক্ষা করতে পারেন।
কিন্তু ড্রাইভে আগে থেকেই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকলে আবারও একই নিয়ম প্রযোজ্য: আগে ব্যাকআপ, পরে পরীক্ষা।
ড্রাইভ পুরোনো হলেই ফেলে দিতে হবে, এমন নয়।
পরীক্ষা করে কোনো সমস্যা না পাওয়া গেলে এটি কম গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে। যেমন:
কিন্তু যেসব ফাইল হারালে আবার পাওয়া কঠিন, সেগুলোর একমাত্র জায়গা হিসেবে পুরোনো এইচডিডি ব্যবহার না করাই ভালো।
এর মধ্যে থাকতে পারে:
না।
নতুন এসএসডি বা এইচডিডিও নষ্ট হতে পারে। তাই “নতুন ড্রাইভ” আর “ব্যাকআপ” একই জিনিস নয়।
গুরুত্বপূর্ণ ফাইলের জন্য সবচেয়ে সহজ নিয়ম হলো, একটি ফাইল অন্তত দুই জায়গায় রাখুন।
আর খুব গুরুত্বপূর্ণ হলে তিনটি কপি রাখাই ভালো। উদাহরণ হিসেবে:
এতে একটি ড্রাইভ নষ্ট হলেও সবকিছু একসঙ্গে হারানোর ঝুঁকি অনেক কমে।
কিছু পরিস্থিতিতে ড্রাইভ রেখে লাভের চেয়ে ঝুঁকি বেশি হয়।
যদি বারবার ব্যাড সেক্টর বাড়ে, স্মার্ট সতর্কবার্তা আসে, অস্বাভাবিক শব্দ হয়, ড্রাইভ মাঝেমধ্যে হারিয়ে যায় বা গুরুত্বপূর্ণ ফাইল পড়তে সমস্যা হয়, তাহলে সেটিকে নিয়মিত ব্যবহার থেকে সরিয়ে দেওয়াই ভালো।
আর যদি ড্রাইভ একেবারে ঠিক থাকে, তাহলে সেটিকে অতিরিক্ত সংরক্ষণ বা কম গুরুত্বপূর্ণ ফাইলের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি সহজ:
যে ফাইল হারালে আপনার সত্যিই সমস্যা হবে, সেটির একমাত্র কপি কোনো একটি পুরোনো এইচডিডিতে রাখবেন না।
ড্রাইভটি কত বছরের, সেটি গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো, আপনার ফাইলের আরেকটি নিরাপদ কপি আছে কি না।
No Comments
Leave a comment