কম্পিউটার চলতে চলতে হঠাৎ আটকে যাচ্ছে, নিজে থেকে রিস্টার্ট হচ্ছে বা মাঝেমধ্যে নীল পর্দার ত্রুটি দেখাচ্ছে। এমন হলে অনেকের প্রথম সন্দেহ যায় র্যামের দিকে। কিন্তু শুধু এসব লক্ষণ দেখেই র্যাম নষ্ট ধরে নেওয়া ঠিক নয়। একই ধরনের সমস্যা ড্রাইভার, এসএসডি, অতিরিক্ত তাপ, মাদারবোর্ড কিংবা অন্য হার্ডওয়্যার থেকেও হতে পারে। তাই নতুন র্যাম কেনার আগে কয়েকটি নিরাপদ পরীক্ষার মাধ্যমে সমস্যাটি আসলেই র্যাম থেকে হচ্ছে কি না যাচাই করা ভালো।
র্যামের সমস্যা সবসময় একইভাবে দেখা দেয় না। কখনো কম্পিউটার চালুই হয় না, আবার কখনো কয়েক ঘণ্টা স্বাভাবিক চলার পর সমস্যা শুরু হয়।
র্যাম পরীক্ষা করার প্রয়োজন হতে পারে যদি:
তবে এগুলোর কোনো একটিই র্যাম নষ্ট হওয়ার নিশ্চিত প্রমাণ নয়। Microsoft-ও নীল পর্দার মতো সমস্যার ক্ষেত্রে মেমোরি পরীক্ষার পাশাপাশি ড্রাইভার ও অন্য কারণ যাচাই করার পরামর্শ দেয়।
এই দুটি সমস্যা এক নয়।
ধরুন, আপনার কম্পিউটারে ৪ জিবি বা ৮ জিবি র্যাম আছে এবং অনেকগুলো ব্রাউজার ট্যাব বা ভারী সফটওয়্যার চালালে কম্পিউটার ধীর হয়ে যায়। কিন্তু কোনো ক্র্যাশ, রিস্টার্ট বা মেমোরি ত্রুটি নেই। এখানে র্যাম নষ্ট হওয়ার চেয়ে র্যামের ধারণক্ষমতা কম হওয়া বেশি সম্ভাব্য।
অন্যদিকে এলোমেলো ক্র্যাশ, বিভিন্ন সফটওয়্যারে অস্বাভাবিক ত্রুটি এবং মেমোরি পরীক্ষায় ত্রুটি পাওয়া গেলে র্যাম বা মেমোরি ব্যবস্থায় সমস্যা থাকার সম্ভাবনা বাড়ে।
Windows ব্যবহার করলে আলাদা কোনো সফটওয়্যার ছাড়াই প্রথম পরীক্ষা করা যায়। এর জন্য রয়েছে Windows Memory Diagnostic।
পরীক্ষা শুরুর আগে চলমান কাজ সংরক্ষণ করুন, কারণ কম্পিউটার রিস্টার্ট হবে।
১. কিবোর্ডে Windows + R চাপুন। ২. Run বক্সে mdsched লিখে Enter চাপুন। ৩. Restart now and check for problems নির্বাচন করুন। ৪. কম্পিউটার রিস্টার্ট হয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে র্যাম পরীক্ষা শুরু করবে। ৫. পরীক্ষা শেষ হলে আবার Windows চালু হবে।
সাধারণভাবে Standard পরীক্ষা চলে। প্রথম পরীক্ষায় কিছু না পাওয়া গেলেও সমস্যা থেকে গেলে পরীক্ষার সময় F1 চেপে Extended পরীক্ষা নির্বাচন করা যায়। সেটিং কার্যকর করতে F10 চাপতে হয়। Microsoft-এর মতে Extended পরীক্ষা Standard পরীক্ষার তুলনায় বেশি বিস্তারিত, তবে সময়ও বেশি লাগে।
Windows চালু হওয়ার পর সাধারণত পরীক্ষার ফলের একটি নোটিফিকেশন দেখায়। সেটি চোখ এড়িয়ে গেলে Event Viewer খুলে MemoryDiagnostics-Results খুঁজে ফল দেখা যায়। Microsoft-এর বর্তমান নির্দেশনায় Event ID 2001 কোনো মেমোরি ত্রুটি না পাওয়ার ইঙ্গিত দেয়।
যদি Windows Memory Diagnostic ত্রুটি দেখায়, পরের কাজ হলো কোন র্যাম বা কোন কনফিগারেশনে সমস্যা হচ্ছে সেটি আলাদা করে দেখা।
র্যামের কিছু সমস্যা সবসময় Windows-এর সাধারণ পরীক্ষায় ধরা নাও পড়তে পারে। কম্পিউটার যদি এখনো এলোমেলোভাবে ক্র্যাশ বা রিস্টার্ট করে, তাহলে আরও বিস্তারিত পরীক্ষার জন্য MemTest86 ব্যবহার করা যায়।
MemTest86 Windows-এর ভেতর থেকে পরীক্ষা করে না। এটি USB ড্রাইভ থেকে আলাদাভাবে চালু হয়ে বিভিন্ন প্যাটার্ন ব্যবহার করে র্যাম পরীক্ষা করে।
গুরুত্বপূর্ণ: MemTest86-এর বুটযোগ্য USB তৈরি করলে ওই USB-তে থাকা আগের তথ্য মুছে যাবে। তাই প্রয়োজনীয় ফাইল থাকলে আগে অন্য জায়গায় রেখে দিন।
বর্তমান MemTest86 সংস্করণ মূলত UEFI-ভিত্তিক কম্পিউটারের জন্য তৈরি। পুরোনো কম্পিউটারে বুটের নিয়ম আলাদা হতে পারে।
সবসময় নয়।
MemTest86 নিজেই বলছে, পরীক্ষার সময় শুধু র্যাম নয়, মেমোরি কন্ট্রোলার, প্রসেসর ক্যাশ এবং মাদারবোর্ডের অংশও পরোক্ষভাবে পরীক্ষার মধ্যে পড়ে। ফলে ত্রুটি পাওয়া মানেই সঙ্গে সঙ্গে র্যাম স্টিকটি ফেলে দিতে হবে, এমন নয়। তবে অধিকাংশ মেমোরি ত্রুটির ক্ষেত্রে র্যাম মডিউলই প্রধান সন্দেহের জায়গা।
ত্রুটি পেলে এভাবে এগোনো যায়:
BIOS থেকে XMP বা EXPO চালু থাকলে র্যাম তার সাধারণ গতির চেয়ে বেশি নির্ধারিত গতিতে চলতে পারে। কোনো কোনো কনফিগারেশনে সেটি স্থিতিশীল না হলে মেমোরি ত্রুটি দেখা দিতে পারে।
সেটিংটি বন্ধ করে সাধারণ গতিতে আবার পরীক্ষা করুন। ত্রুটি চলে গেলে র্যাম পুরোপুরি নষ্ট না হয়ে বর্তমান গতি বা টাইমিংয়ে অস্থিতিশীল হতে পারে। MemTest86-ও আক্রমণাত্মক টাইমিংয়ের ক্ষেত্রে সাধারণ বা ডিফল্ট সেটিংয়ে পুনরায় পরীক্ষা করার পরামর্শ দেয়।
ধরুন, আপনার কম্পিউটারে দুটি ৮ জিবি র্যাম রয়েছে।
দুটি একসঙ্গে লাগানো অবস্থায় ত্রুটি এলে একটি খুলে শুধু অন্যটি দিয়ে পরীক্ষা করুন। এরপর সেটি খুলে দ্বিতীয়টি দিয়ে একই পরীক্ষা করুন।
একটি র্যাম বারবার ত্রুটি দেখায় কিন্তু অন্যটি না দেখালে সমস্যাযুক্ত মডিউল শনাক্ত করা অনেক সহজ হয়। MemTest86-ও ত্রুটিপূর্ণ মডিউল আলাদা করার সবচেয়ে সহজ উপায় হিসেবে মডিউল খুলে আলাদাভাবে পরীক্ষা করার কথা বলে।
একটি র্যাম নির্দিষ্ট স্লটে ত্রুটি দিচ্ছে কিন্তু অন্য স্লটে ঠিক চলছে, তাহলে শুধু র্যাম নয়, মাদারবোর্ডের স্লটও সন্দেহের মধ্যে থাকবে।
আবার দুটি র্যাম আলাদাভাবে ঠিক থাকলেও একসঙ্গে লাগালে ত্রুটি হতে পারে। এর কারণ মডিউলের অমিল, মাদারবোর্ডের সামঞ্জস্য বা মাল্টি-চ্যানেল কনফিগারেশনও হতে পারে।
ডেস্কটপে র্যাম খুলে পরীক্ষা করা তুলনামূলক সহজ হলেও কয়েকটি বিষয় মনে রাখা দরকার।
ল্যাপটপের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক থাকা দরকার। অনেক নতুন ল্যাপটপে র্যাম সরাসরি মাদারবোর্ডে যুক্ত থাকে, আবার কিছু মডেল খুললে ওয়ারেন্টি সংক্রান্ত নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে। নিজের হাতে খুলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ না করলে পরীক্ষার এই অংশটি সার্ভিস সেন্টারে করানো ভালো।
র্যামের সংযোগ পরিষ্কার করতে ইরেজার ব্যবহার বা BIOS থেকে নিজের মতো ভোল্টেজ বাড়ানোর মতো পদ্ধতি সাধারণ ব্যবহারকারীর জন্য প্রয়োজন নেই।
Windows Memory Diagnostic এবং MemTest86 দুটিতেই বারবার কোনো ত্রুটি না পাওয়া গেলে শুধু র্যামকে দায়ী করে নতুন র্যাম কেনা ঠিক হবে না।
তখন দেখতে হবে:
Microsoft ও নীল পর্দার সমস্যায় মেমোরির পাশাপাশি ড্রাইভার এবং সিস্টেমের অন্য ত্রুটি পরীক্ষা করার কথা বলে।
নিচের পরিস্থিতিতে র্যাম পরিবর্তন করা যুক্তিসংগত হতে পারে:
তবে ওয়ারেন্টি থাকা র্যাম হলে নিজে কোনো ঝুঁকিপূর্ণ পরীক্ষা বা পরিবর্তন না করে আগে বিক্রেতা বা অনুমোদিত সেবা কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ করাই ভালো।
কম্পিউটার আটকে যাওয়া বা ধীর হয়ে যাওয়ার অর্থ সরাসরি র্যাম নষ্ট নয়। প্রথমে লক্ষণগুলো দেখুন, Windows Memory Diagnostic চালান এবং প্রয়োজন হলে MemTest86 দিয়ে বিস্তারিত পরীক্ষা করুন। ত্রুটি পাওয়া গেলে একাধিক র্যাম থাকলে একটি করে পরীক্ষা করা এবং স্লট বদলে দেখা সমস্যাটি কোথায় তা বুঝতে সাহায্য করবে। আর সব পরীক্ষায় র্যাম ঠিক থাকলে অন্য হার্ডওয়্যার বা সফটওয়্যারের দিকে নজর দিন। এভাবে পরীক্ষা করলে শুধু আন্দাজের ওপর ভিত্তি করে নতুন র্যাম কেনার প্রয়োজন পড়ে না, আর আসল সমস্যাটিও দ্রুত খুঁজে বের করা সহজ হয়।
No Comments
Leave a comment