গেম খেলার সময় স্ক্রিনে হঠাৎ ছবির এক অংশের সঙ্গে অন্য অংশ ঠিকমতো না মেলা, কাঁপা বা অস্বাভাবিক ঝাঁকুনি দেখা গেলে সেটি অনেক সময় মনিটরের রিফ্রেশ রেট ও গ্রাফিক্স কার্ডের ফ্রেম রেট একসঙ্গে না চলার কারণে হয়। এই সমস্যাগুলো কমানোর জন্য ব্যবহার করা হয় ফ্রিসিঙ্ক, জি-সিঙ্ক(G-Sync) এবং অ্যাডাপটিভ সিঙ্ক প্রযুক্তি।
সহজভাবে বললে, এই প্রযুক্তিগুলোর কাজ হলো মনিটরের রিফ্রেশ রেটকে গ্রাফিক্স কার্ডের ফ্রেম রেটের সঙ্গে মিলিয়ে চালানো।
ধরুন, আপনার গ্রাফিক্স কার্ড প্রতি সেকেন্ডে ৯০টি ফ্রেম তৈরি করছে, কিন্তু মনিটর চলছে ৬০ হার্টজে।
এ অবস্থায় মনিটর কখনও একটি ফ্রেমের উপরের অংশ এবং আরেকটি ফ্রেমের নিচের অংশ একসঙ্গে দেখাতে পারে। তখন ছবিতে মাঝ বরাবর ভাঙা বা কাটা দাগ দেখা যায়।
এটিই সাধারণভাবে স্ক্রিন টিয়ারিং নামে পরিচিত।
অ্যাডাপটিভ সিঙ্ক হলো এমন একটি প্রযুক্তি, যেখানে মনিটর স্থির রিফ্রেশ রেটে না চলে গ্রাফিক্স কার্ডের তৈরি ফ্রেম অনুযায়ী নিজের রিফ্রেশ রেট পরিবর্তন করে।
উদাহরণ হিসেবে:
ফলে স্ক্রিন টিয়ারিং এবং ঝাঁকুনি কমে যায়।
ফ্রি-সিঙ্ক হলো এএমডির এমন একটি প্রযুক্তি, যা গ্রাফিক্স কার্ডের ফ্রেম রেট অনুযায়ী মনিটরের রিফ্রেশ রেট মিলিয়ে দেয়।
এটি সমর্থিত মনিটর এবং গ্রাফিক্স কার্ডের মধ্যে ফ্রেম রেট ও রিফ্রেশ রেট সমন্বয় করে।
এর প্রধান সুবিধা হলো:
তবে সব ফ্রিসিঙ্ক মনিটরের কর্মক্ষমতা এক নয়। সমর্থিত রিফ্রেশ রেটের পরিসর এবং মনিটরের মানও গুরুত্বপূর্ণ।
জি-সিঙ্ক মূলত এনভিডিয়ার প্রযুক্তি।
জি-সিঙ্কের কাজও মূলত একই, তবে এটি এনভিডিয়ার প্রযুক্তি। গ্রাফিক্স কার্ড যত ফ্রেম তৈরি করছে, মনিটর সেই অনুযায়ী রিফ্রেশ রেট পরিবর্তন করে।
এর ফলে:
কিছু জি-সিঙ্ক মনিটরে বিশেষ হার্ডওয়্যার ব্যবহার করা হয়, আবার কিছু মনিটর জি-সিঙ্ক সামঞ্জস্যপূর্ণ হিসেবে কাজ করে।
| প্রযুক্তি | সাধারণভাবে কার সঙ্গে বেশি ব্যবহৃত হয় | মূল কাজ |
| অ্যাডাপটিভ সিঙ্ক | বিভিন্ন সমর্থিত ডিভাইস | পরিবর্তনশীল রিফ্রেশ রেট |
| ফ্রিসিঙ্ক | এএমডি গ্রাফিক্স | ফ্রেম রেট ও রিফ্রেশ রেট সমন্বয় |
| জি-সিঙ্ক | এনভিডিয়া গ্রাফিক্স | ফ্রেম রেট ও রিফ্রেশ রেট সমন্বয় |
পার্থক্য মূলত কোন গ্রাফিক্স কার্ডের সঙ্গে কাজ করে, কোন মনিটরে সুবিধাটি পাওয়া যায় এবং কীভাবে প্রযুক্তিটি ব্যবহার করা হয়েছে। তিনটির মূল উদ্দেশ্যই একই, আরও মসৃণ ছবি দেখানো এবং স্ক্রিন টিয়ারিং কমানো।
আপনার গ্রাফিক্স কার্ড এবং মনিটরের সমর্থন অনুযায়ী নির্বাচন করা সবচেয়ে ভালো।
এএমডি গ্রাফিক্স কার্ড ব্যবহার করলে ফ্রিসিঙ্ক সমর্থিত মনিটর সুবিধাজনক হতে পারে। এনভিডিয়া গ্রাফিক্স ব্যবহার করলে জি-সিঙ্ক(G-Sync) বা জি-সিঙ্ক সামঞ্জস্যপূর্ণ মনিটর বিবেচনা করা যায়।
তবে শুধু এই প্রযুক্তির নাম দেখেই মনিটর কিনবেন না। রিফ্রেশ রেট, প্যানেল, রেজোলিউশন, রেসপন্স টাইম এবং পরিবর্তনশীল রিফ্রেশ রেটের কার্যকর পরিসরও দেখা উচিত।
ফ্রিসিঙ্ক, জি-সিঙ্ক এবং অ্যাডাপটিভ সিঙ্কের মূল কাজ হলো গ্রাফিক্স কার্ড ও মনিটরকে একই গতিতে কাজ করতে সাহায্য করা।
ফলে গেমপ্লে আরও মসৃণ হয়, স্ক্রিন টিয়ারিং কমে এবং ফ্রেম রেট ওঠানামা করলেও দৃশ্য তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকে।
গেমিং মনিটর বেছে নেওয়ার সময় তাই শুধু উচ্চ রিফ্রেশ রেট নয়, আপনার গ্রাফিক্স কার্ডের সঙ্গে কোন সিঙ্ক প্রযুক্তি ভালোভাবে কাজ করবে সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
No Comments
Leave a comment