কয়েকটা মার্কেটে গিয়ে, ডজনখানেক দোকান ঘুরে, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পার্টস দেখে, দাম যাচাই করে এবং কোনটা ভালো বা খারাপ তা বুঝে নিজের পছন্দমতো একটি পিসি বিল্ড করার অভিজ্ঞতা সত্যিই অন্যরকম। কিন্তু সবার পক্ষে এত সময় বের করে এক দোকান থেকে আরেক দোকানে ঘোরা সম্ভব হয় না। বিশেষ করে ঢাকার বাইরে থাকলে পছন্দের যন্ত্রাংশ একসঙ্গে খুঁজে পাওয়া আরও ঝামেলার হতে পারে।
এখন সেই কাজটাই অনেক সহজে ঘরে বসে অনলাইনে করা সম্ভব। রায়ান্স থেকে আপনার প্রয়োজন ও বাজেট অনুযায়ী প্রসেসর, মাদারবোর্ড, র্যাম, এসএসডি, গ্রাফিক্স কার্ড, পাওয়ার সাপ্লাই, কেসিংসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ বেছে নিজের পছন্দমতো কম্পিউটার বিল্ড করতে পারবেন। যন্ত্রাংশ নির্বাচন থেকে শুরু করে অ্যাসেম্বলি, টেস্টিং, নিরাপদ প্যাকেজিং এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ডেলিভারি পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটি কীভাবে কাজ করে, সেটাই এই লেখায় সহজভাবে দেখানো হবে।
রায়ান্সের ওয়েবসাইটে পিসি বিল্ড করার জন্য আলাদা ব্যবস্থা রয়েছে। এখানে ধাপে ধাপে প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ বেছে নেওয়া যায়।
শুরুতে প্রসেসর নির্বাচন করুন। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী মাদারবোর্ড, র্যাম, এসএসডি, হার্ডডিস্ক, কেসিং, প্রসেসর কুলার, গ্রাফিক্স কার্ড, পাওয়ার সাপ্লাই ও কেসিং ফ্যান যোগ করতে পারবেন।
প্রয়োজনে একই তালিকায় মনিটর, কিবোর্ড, মাউস ও ইউপিএসও রাখা যায়। সব যন্ত্রাংশ নির্বাচন করার পর সম্পূর্ণ তালিকা এবং মোট খরচ একসঙ্গে দেখে নেওয়া যায়। চাইলে তালিকাটি সংরক্ষণ বা ছাপিয়েও রাখা যায়।
যন্ত্রাংশ সম্পর্কে ভালো ধারণা না থাকলেও সমস্যা নেই। কোন যন্ত্রাংশ একে অপরের সঙ্গে ঠিকভাবে কাজ করবে, সে বিষয়ে রায়ান্সের সহায়তা নেওয়া যায়। রায়ান্সের তৈরি পিসিগুলোতে প্রসেসর, মাদারবোর্ড, র্যাম, স্টোরেজ, কেসিং এবং পাওয়ার সাপ্লাইয়ের সামঞ্জস্য যাচাই করে কনফিগারেশন চূড়ান্ত করা হয়।
পিসি তৈরির তালিকা প্রস্তুত হলে অর্ডার দেওয়ার আগে কয়েকটি বিষয় দেখে নিন:
এতে পিসি হাতে পাওয়ার পর আপনার অর্ডারের সঙ্গে সবকিছু সহজে মিলিয়ে নিতে পারবেন।
পছন্দের পণ্যগুলো ঝুড়িতে যোগ করার পর সেখান থেকে অর্ডার সম্পন্ন করা যায়।
প্রথমে নিজের জেলা এবং শহর বা উপজেলা নির্বাচন করতে হবে। এরপর আপনার এলাকার জন্য পাওয়া ডেলিভারি পদ্ধতি নির্বাচন করুন। বর্তমানে বাড়িতে ডেলিভারি, কুরিয়ার অথবা রায়ান্সের শাখা থেকে সংগ্রহের ব্যবস্থা রয়েছে।
এরপর নাম, ঠিকানা ও যোগাযোগের তথ্য দিয়ে পেমেন্ট পদ্ধতি নির্বাচন করুন। সবশেষে পণ্যের তালিকা, পরিমাণ, ঠিকানা এবং মোট মূল্য আরেকবার দেখে অর্ডার নিশ্চিত করুন।
অর্ডার সফল হলে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে অর্ডার নম্বরসহ বার্তা আসে। এরপর রায়ান্স থেকে অর্ডার নিশ্চিত করার জন্য যোগাযোগ করা হয়। অর্ডারের অবস্থাও নিজের হিসাব থেকে দেখা যায়।
দূর থেকে সম্পূর্ণ পিসি অর্ডার করার ক্ষেত্রে এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি।
রায়ান্সের তৈরি পিসিগুলো ডেলিভারি বা হস্তান্তরের আগে অ্যাসেম্বল করে পরীক্ষা করা হয়। পাশাপাশি ব্যবহৃত প্রধান যন্ত্রাংশগুলো একে অপরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না সেটিও যাচাই করা হয়।
তাই একজন ক্রেতাকে নিজে পিসি তৈরি বা পরীক্ষা করার কারিগরি বিষয় জানতে হয় না। অর্ডারের সময় নিজের প্রয়োজন এবং বাজেট পরিষ্কারভাবে জানানো এবং চূড়ান্ত কনফিগারেশনটি মিলিয়ে নেওয়াই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
সম্পূর্ণ তৈরি পিসি কুরিয়ারে নিলে অর্ডার নিশ্চিত করার সময় ডেলিভারি সম্পর্কে পরিষ্কার হয়ে নিন।
বিশেষ করে পিসিতে বড় গ্রাফিক্স কার্ড বা কাচের কেসিং থাকলে পরিবহনের জন্য কীভাবে নিরাপদ করা হবে তা রায়ান্সের সঙ্গে কথা বলে জেনে নিতে পারেন।
পিসি পাঠানোর আগে সম্ভব হলে সম্পূর্ণ তৈরি পিসির ছবি চাইতে পারেন। এই সুবিধা পাওয়া যাবে কি না সেটি অর্ডারের সময় নিশ্চিত করে নেওয়া ভালো।
পিসি পাওয়ার পর তাড়াহুড়া করে চালু না করে প্রথমে প্যাকেট ও কেসিংয়ের বাইরের অবস্থা দেখে নিন।
বড় কোনো আঘাত, ভাঙা অংশ বা অস্বাভাবিক কিছু দেখা গেলে ছবি বা ভিডিও রাখুন। সম্ভব হলে প্যাকেট খোলার সময়ও ভিডিও রাখতে পারেন।
সবকিছু ঠিক থাকলে পিসি চালু করে দেখুন:
কোনো সমস্যা মনে হলে নিজে যন্ত্রাংশ খুলে মেরামতের চেষ্টা না করে রায়ান্সের সঙ্গে যোগাযোগ করাই ভালো।
রায়ান্স বর্তমানে সারা বাংলাদেশে কুরিয়ারের মাধ্যমে পণ্য পাঠায়। কুরিয়ার ডেলিভারির জন্য উল্লেখিত সময় সাধারণত ১ থেকে ৭ কার্যদিবস। ৩০,০০০ টাকার বেশি মূল্যের কুরিয়ার অর্ডারে বর্তমানে কমপক্ষে ৫,০০০ টাকা অগ্রিম দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। দূরবর্তী এলাকায় নিকটস্থ কুরিয়ার পয়েন্ট থেকে পণ্য সংগ্রহ করতে হতে পারে।
অর্ডারের সময় বর্তমান ডেলিভারি নিয়ম ও খরচ আবার দেখে নেওয়া ভালো, কারণ এগুলো সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে।
একটি পিসি তৈরিতে একাধিক যন্ত্রাংশের পেছনে উল্লেখযোগ্য টাকা খরচ হয়। তাই শুধু কম দাম নয়, কোথা থেকে কিনছেন সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
রায়ান্স ২০০০ সাল থেকে কম্পিউটার ব্যবসায় রয়েছে এবং বর্তমানে ২৬ বছরেরও বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে। ২০১৭ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটি অনলাইন বিক্রয় কার্যক্রমও বিস্তৃত করেছে এবং বর্তমানে দেশের ৬৪ জেলায় গ্রাহকদের সেবা দিচ্ছে। রায়ান্সের ২১টি শাখাও রয়েছে।
সম্পূর্ণ পিসির ক্ষেত্রে আরও একটি সুবিধা হলো, রায়ান্স যন্ত্রাংশের সামঞ্জস্য যাচাই করে পিসি অ্যাসেম্বল ও পরীক্ষা করে হস্তান্তর করে। পরবর্তী সময়ে ওয়ারেন্টি বা বিক্রয়োত্তর সহায়তার প্রয়োজন হলে রায়ান্সের মাধ্যমে সেই প্রক্রিয়ায় সহায়তা পাওয়া যায়।
ফলে আপনি ঢাকায় থাকুন বা দেশের অন্য কোনো জেলায়, নিজের বাজেট ও কাজের প্রয়োজন জানিয়ে পিসি তৈরি করে নেওয়ার জন্য রায়ান্স একটি প্রতিষ্ঠিত ও সহজ সমাধান।
দূর থেকে পিসি তৈরি করে কেনার প্রক্রিয়াটি জটিল করার প্রয়োজন নেই।
প্রয়োজন ঠিক করুন → যন্ত্রাংশ বাছাই করুন → কনফিগারেশন মিলিয়ে নিন → অর্ডার করুন → পিসি তৈরি ও পরীক্ষা করান → নিরাপদে ডেলিভারি নিন → হাতে পাওয়ার পর সবকিছু মিলিয়ে দেখুন।
সঠিক জায়গা থেকে অর্ডার করলে দেশের যেকোনো প্রান্তে বসেই নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী সম্পূর্ণ পিসি তৈরি করে নেওয়া সম্ভব।
No Comments
Leave a comment