আপনার যদি মাসে মাত্র ২০–৩০ পৃষ্ঠা প্রিন্ট করতে হয়, বেশিরভাগ সময় সাদা-কালো নথি ছাপেন এবং মাঝে মাঝে কয়েক সপ্তাহ প্রিন্টার ব্যবহার না করেন, তাহলে Pantum P2500W একটি ভারসাম্যপূর্ণ পছন্দ। এর তালিকাভুক্ত দাম প্রায় ১২,৫০০ টাকা। এটি শুধু সাদা-কালো প্রিন্ট করে। ইউএসবির পাশাপাশি ওয়াই-ফাই সংযোগ রয়েছে এবং A4 কাগজে সর্বোচ্চ প্রতি মিনিটে ২২ পৃষ্ঠা প্রিন্ট করতে পারে। লেজার প্রিন্টারে তরল কালি ব্যবহার হয় না। তাই দীর্ঘদিন ব্যবহার না করলে ইঙ্কজেট প্রিন্টারের মতো কালি শুকিয়ে প্রিন্ট হেডের নোজল বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি থাকে না।
তবে এর অর্থ এই নয় যে লেজার প্রিন্টার দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকলেও কখনো সমস্যা হবে না। ধুলা, আর্দ্রতা, নিম্নমানের টোনার বা বিদ্যুতের সমস্যা যেকোনো প্রিন্টারের ক্ষতি করতে পারে। তাই প্রিন্টার শুকনা ও পরিষ্কার জায়গায় রাখা এবং মাঝে মাঝে একটি পরীক্ষামূলক পৃষ্ঠা প্রিন্ট করা ভালো অভ্যাস।
কম ব্যবহার এবং ওয়াই-ফাই সুবিধার কারণে বাসার জন্য Pantum P2500W সবচেয়ে ব্যবহারিক বিকল্প।
ওয়াই-ফাই থাকায় প্রিন্টারের পাশে বসে ইউএসবি কেবল লাগানোর প্রয়োজন হয় না। একই নেটওয়ার্কে থাকা সামঞ্জস্যপূর্ণ ল্যাপটপ বা অন্য ডিভাইস থেকে প্রিন্ট পাঠানো যায়।
এতে ১৫০ পৃষ্ঠার কাগজ রাখার ট্রে রয়েছে, যা মাসে ২০–৩০ পৃষ্ঠার মতো হালকা ব্যবহারের জন্য যথেষ্ট। সঙ্গে থাকা প্রাথমিক টোনারের ঘোষিত মুদ্রণক্ষমতা প্রায় ৭০০ পৃষ্ঠা। P-210 সিরিজের উপযোগী টোনারের ঘোষিত মুদ্রণক্ষমতা প্রায় ১,৬০০ পৃষ্ঠা।
মাসে ৩০ পৃষ্ঠা হিসাবে কাগজে-কলমে ১,৬০০ পৃষ্ঠার একটি টোনার অনেক দিন চলতে পারে। তবে বাস্তবে প্রতি পাতায় টোনারের ব্যবহার, পরীক্ষামূলক প্রিন্ট এবং অন্যান্য কারণে ঘোষিত সংখ্যার চেয়ে কম পৃষ্ঠা পাওয়া স্বাভাবিক। তাই এটিকে নিশ্চিত হিসাব না ধরে আনুমানিক ধারণা হিসেবে দেখা ভালো।
যদি নিয়মিত অ্যাসাইনমেন্ট, নোট বা বড় নথি দুই পিঠে প্রিন্ট করেন, তাহলে Brother HL-L2320D বেশি সুবিধাজনক হতে পারে।
এটি A4 কাগজে সর্বোচ্চ প্রতি মিনিটে ৩০ পৃষ্ঠা প্রিন্ট করতে পারে এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে দুই পিঠে প্রিন্ট করার সুবিধা রয়েছে।
তবে এতে ওয়াই-ফাই নেই। কম্পিউটারের সঙ্গে ইউএসবি কেবল দিয়ে সংযোগ দিতে হবে।
মাসে মাত্র ২০–৩০ পৃষ্ঠা প্রিন্ট করলে এর বাড়তি গতি খুব গুরুত্বপূর্ণ নাও হতে পারে। কিন্তু নিয়মিত দুই পিঠে প্রিন্ট করলে স্বয়ংক্রিয় ডুপ্লেক্স সুবিধা সময় ও কাগজ দুটোই বাঁচাতে পারে।
তাই আপনার কাছে ওয়াই-ফাইয়ের চেয়ে দুই পিঠে স্বয়ংক্রিয় প্রিন্ট বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলে Brother HL-L2320D বিবেচনা করতে পারেন।
ওয়াই-ফাই প্রয়োজন না হলে Pantum P2500 আরও কম খরচের বিকল্প।
এর দাম প্রায় ১১,৫০০ টাকা। মূল ব্যবহারের দিক থেকে এটি P2500W-এর কাছাকাছি, তবে কম্পিউটারের সঙ্গে ইউএসবি কেবল দিয়ে সংযোগ দিতে হয়।
P2500W-এর তুলনায় প্রায় ১,০০০ টাকা কম খরচ হতে পারে। তবে বাসার অন্য ঘর থেকে তারবিহীনভাবে প্রিন্ট পাঠানোর সুবিধা পাওয়া যাবে না।
তাই একটি নির্দিষ্ট কম্পিউটারের সঙ্গে প্রিন্টার ব্যবহার করলে P2500 যথেষ্ট হতে পারে। একাধিক ডিভাইস থেকে ব্যবহার করলে P2500W বেশি সুবিধাজনক।
ইঙ্ক ট্যাঙ্ক বা কার্ট্রিজভিত্তিক ইঙ্কজেট প্রিন্টারের সুবিধা আছে। এগুলো দিয়ে রঙিন প্রিন্ট করা যায় এবং বেশি পরিমাণে প্রিন্ট করলে প্রতি পৃষ্ঠার খরচও কম হতে পারে।
কিন্তু আপনার ব্যবহার যদি হয় মাসে মাত্র ২০–৩০টি সাদা-কালো পৃষ্ঠা এবং প্রিন্টের মাঝে দীর্ঘ বিরতি থাকে, তাহলে সেই সুবিধাগুলোর অনেকটাই কাজে নাও লাগতে পারে।
ইঙ্কজেট প্রিন্টারে তরল কালি ব্যবহার হয়। দীর্ঘদিন প্রিন্ট না করলে কালি শুকিয়ে প্রিন্ট হেডের নোজলে সমস্যা তৈরি হতে পারে। তখন হেড পরিষ্কার করতে অতিরিক্ত কালি খরচ হয় এবং কখনো কখনো সার্ভিসেরও প্রয়োজন হতে পারে।
লেজার প্রিন্টারে টোনার গুঁড়া ব্যবহার হয়। তাই কালি শুকিয়ে যাওয়ার সমস্যাটি থাকে না।
আপনার মতো কম ব্যবহারকারীর ক্ষেত্রে শুধু প্রতি পৃষ্ঠার খরচ নয়, দরকারের সময় প্রিন্টারটি সহজে ব্যবহার করা যাবে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
তবে নিয়মিত রঙিন ছবি, চার্ট বা স্কুল প্রজেক্ট প্রিন্ট করতে হলে ইঙ্কজেট প্রিন্টারের প্রয়োজন হতে পারে।
এখানে উল্লেখ করা তিনটি মডেলই মূলত প্রিন্টের জন্য। NID, ফরম, সনদ বা অন্য নথি নিয়মিত স্ক্যান ও ফটোকপি করতে হলে বহুমুখী সাদা-কালো লেজার প্রিন্টার দেখা ভালো।
বাসায় একাধিক কম্পিউটার বা ডিভাইস থেকে প্রিন্ট করতে হলে Pantum P2500W সুবিধাজনক।
একটি নির্দিষ্ট কম্পিউটারের সঙ্গে ব্যবহার করলে ইউএসবি সংযোগই যথেষ্ট হতে পারে।
Pantum P2500 সিরিজে কাগজ হাতে উল্টে দুই পিঠে প্রিন্ট করতে হবে।
Brother HL-L2320D স্বয়ংক্রিয়ভাবে দুই পিঠে প্রিন্ট করতে পারে।
শুধু প্রিন্টারের দাম দেখে সিদ্ধান্ত নেবেন না। কেনার সময় উপযোগী আসল বা নির্ভরযোগ্য টোনারের দাম ও সহজলভ্যতাও জেনে নিন।
দীর্ঘমেয়াদে প্রিন্টারের মোট খরচে টোনারের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
প্রিন্টার কেনার পর বাক্স, ক্রয়ের রসিদ এবং প্রয়োজনীয় প্যাকেজিং সংরক্ষণ করা ভালো। ওয়ারেন্টি বা সার্ভিস নেওয়ার সময় কী কী প্রয়োজন হবে, কেনার সময়ই জেনে নিন।
বাসায় মাসে প্রায় ২০–৩০টি সাদা-কালো পৃষ্ঠা প্রিন্ট করতে হলে এবং ব্যবহারের মাঝে দীর্ঘ বিরতি থাকলে Pantum P2500W সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ পছন্দ। এটি লেজার প্রিন্টারের সুবিধার সঙ্গে ওয়াই-ফাই সংযোগও দেয়। সবচেয়ে কম খরচে শুধু ইউএসবি সংযোগ চাইলে Pantum P2500 বিবেচনা করতে পারেন। আর স্বয়ংক্রিয়ভাবে দুই পিঠে প্রিন্ট করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলে Brother HL-L2320D ভালো বিকল্প হতে পারে। কেনার আগে বর্তমান দাম, টোনারের দাম, ওয়ারেন্টির শর্ত এবং আপনার কম্পিউটারের অপারেটিং সিস্টেমের সঙ্গে ড্রাইভার সামঞ্জস্য অবশ্যই যাচাই করুন। প্রিন্টারের দাম ও বাজার পরিস্থিতি সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে।
No Comments
Leave a comment